সরকারি হরগঙ্গা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাশেম আর নেই। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকার ইসলামী ব্যাংক কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তাঁর জামাতা এম এ বাতেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক আবুল কাশেম স্ত্রী, এক কন্যা সিলভী কাশেম, জামাতা, দুই নাতনি, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
১৯৪১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাহেরঘাটা গ্রামে তাঁর জন্ম। কর্মজীবনের শেষ সময়ে তিনি ঢাকার পল্লবীতে বসবাস করতেন।
অধ্যাপক আবুল কাশেম ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বেই কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি লাভ করে এবং ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। এ লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিরলসভাবে কাজ করেন এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সরকারি হরগঙ্গা কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন অধ্যাপক আবুল কাশেম। অবসর গ্রহণের পর তিনি কলেজে “অধ্যক্ষ আবুল কাশেম স্কলারশিপ” চালুর জন্য ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন, যা নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর অসামান্য ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত। পরে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও কয়েক বছর শিক্ষকতা করেন।
ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা করার সময় তাঁর ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহসহ দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
তাঁর শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের সর্বোচ্চ ভবনের নামকরণ করা হয়েছে ‘প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম প্রশাসনিক কাম অ্যাকাডেমিক ভবন’। এছাড়া গত জানুয়ারিতে হরগঙ্গা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম শিক্ষার্থী পুনর্মিলনীতে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাংবাদিক ও লেখক কাজী হাসানের সম্পাদনায় ‘বরেণ্য মহান শিক্ষক অধ্যক্ষ আবুল কাশেম’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০২৪ সালের বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সোনারং ভিজ্যুয়াল আর্টসের উদ্যোগে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে ‘যদ্যপি আমার গুরু’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত হয়।
অধ্যাপক আবুল কাশেমের মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের শিক্ষা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে একজন আদর্শ শিক্ষক, দক্ষ প্রশাসক এবং মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করছেন।