মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও এলাকায় সংঘটিত সোহেল মুন্সী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে সোহেল মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই সময় উঠানে থাকা তার মোটরসাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের মা সেফালী বেগম বাদী হয়ে লৌহজং থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে লৌহজং থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার যশলং ইউনিয়নের সেরাজাবাদ এলাকা থেকে মো. দ্বীন ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সেরাজাবাদ গ্রামের মৃত শামসুল হক ঢালী ওরফে সানু ঢালীর ছেলে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীন ইসলাম হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেফতারকৃত দ্বীন ইসলাম নিহত সোহেল মুন্সীর স্ত্রী নুপুরের সাবেক স্বামী। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার রাতে তিনি সোহেল মুন্সীর বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন নেভাতে বাইরে বের হলে সোহেল মুন্সীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।
পুলিশ আরও জানায়, তদন্তের সময় ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাপ্ত তথ্য ও ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা নেভি-ব্লু রঙের একটি ফুলহাতা শার্ট, একটি প্যান্ট, একজোড়া সাদা কেডস, একটি লাল গামছা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।