মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকায় পূর্ববিরোধ ও পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৪ জুন) সকাল ৮টার দিকে পৌরসভার জসিমনগর এলাকার একটি ঘাসে ঢাকা জমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম মো. আরিফ বেপারী (৩৭)। তিনি পৌরসভার পাঁচঘরিয়া এলাকার প্রয়াত মতিন বেপারীর ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি মুন্সীরহাট বাজারে কসাইয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন এবং মুন্সীরহাটসংলগ্ন জসিমনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আরিফের ছোট ভাইয়ের পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে কয়েকজন নারী তাঁদের বাড়ির পাশের ঘাসের জমিতে এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে কাছে যান। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাঁর পরিবারকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফের ছোট ভাই আকাশ বেপারী মুন্সীরহাট বাজারে কসাইয়ের কাজ করতেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্রে পাশ্ববর্তী চরকিশোরগঞ্জ এলাকার কসাই নূর মোহাম্মদের কাছে তাঁর প্রায় ৪৯ হাজার টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে প্রায় ছয় মাস আগে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল।
পরিবারের দাবি, শনিবার সকালে আকাশ নূর মোহাম্মদকে ধরে বাজারের কসাই সমিতির জিম্মায় দিলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে শহরের যোগিনীঘাট এলাকার এনায়েত হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে এসে নূর মোহাম্মদকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে এনায়েত হোসেনকে বাজারের লোকজন মারধর করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই আকাশ বেপারী অভিযোগ করে বলেন, “শনিবার সন্ধ্যার পর কয়েকজন আমাকে খুঁজে বেড়ায়। আমি পালিয়ে যাই। আজ সকালে ভাইয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে। তাঁকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এ ঘটনার সঙ্গে পূর্ববিরোধে জড়িত ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত থাকতে পারে।”
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এনায়েত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর মুন্সীগঞ্জ সদর থানা ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ববিরোধের জেরে ওই যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”