মুন্সীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর আরিফ হোসেন (৩৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মাত্র ৪৯ হাজার টাকার পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত আরিফ হোসেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চর শিলমান্দি এলাকার বাসিন্দা। তার ছোট ভাই আকাশ বেপারী কসাই কাজের সুবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার নুর মোহাম্মদের কাছে প্রায় ৪৯ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন।
গত ১৩ জুন সকালে মুন্সীরহাট এলাকায় আরিফ ও তার ভাই আকাশ পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে নুর মোহাম্মদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নুর মোহাম্মদের পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও পরে আরিফকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে একই দিন নুর মোহাম্মদ আরিফদের বাড়িতেও গিয়ে খোঁজখবর নেয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
এরপর ১৪ জুন ভোরে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জসিমনগর এলাকার একটি অনাবাদি জমিতে আরিফ হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানায় রুজু হলেও পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই, মুন্সীগঞ্জ জেলা।
পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেন। তদন্তে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে ১৩ জুন রাত থেকে ১৪ জুন ভোরের মধ্যে যেকোনো সময়ে আরিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
পরে ১৭ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানা এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ (৩০)-কে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
মামলার তদন্ত করছেন পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. হায়দার আলী আকন। পুরো তদন্ত তদারকি করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান।