বাংলার প্রাচীন জনপদ বিক্রমপুরের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকজ জীবনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান বিক্রমপুর জাদুঘর। এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়, বরং বিক্রমপুরের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে একটি জীবন্ত সেতুবন্ধন।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়নের বালাশুর গ্রামে অবস্থিত এই জাদুঘরে বিক্রমপুর অঞ্চলের প্রত্নসম্পদ, প্রাচীন ব্যবহার্য সামগ্রী, কৃষি উপকরণ, ঐতিহাসিক দলিল, বই, আলোকচিত্র এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক নিদর্শন সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষার্থী, ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা এখানে এসে বিক্রমপুরের অতীত সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
বিক্রমপুর জাদুঘর আজ বিক্রমপুরবাসীর গর্ব ও অহংকারের প্রতীক। এটি প্রমাণ করে যে, নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের উদ্যোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই প্রতিষ্ঠান কেবল অতীতকে সংরক্ষণ করছে না, নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসচর্চা, দেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক চেতনা জাগিয়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে দুঃখজনকভাবে, মূল্যবান এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের ভূমির প্রতি বিভিন্ন সময়ে অসাধু ভূমিদস্যুদের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বিক্রমপুরের সচেতন নাগরিক, ইতিহাসপ্রেমী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজ এ বিষয়ে সতর্ক ও জাগ্রত রয়েছেন। তাঁদের দৃঢ় প্রত্যাশা—জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে জাদুঘরের ভূমি ও সম্পদ সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং কোনোভাবেই দখল বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষার এই সংগ্রাম শুধু একটি জাদুঘরকে রক্ষার সংগ্রাম নয়; এটি বিক্রমপুরের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য উত্তরাধিকার সংরক্ষণের সংগ্রাম।
আসুন, আমরা সবাই বিক্রমপুর জাদুঘরের পাশে দাঁড়াই। প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে সহযোগিতা করি, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে উৎসাহিত করি এবং এই ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলি। কারণ, ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখাই একটি জাতির সভ্যতা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত।