1. editor@munshiganjsangbad.com : editor :
  2. kaium07bics@gmail.com : madmin :
July 3, 2026, 5:43 pm

আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী

নাসির উদ্দিন এলান
  • Update Time : Friday, July 3, 2026,
  • 31 Time View

আগামী ৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার অবিভক্ত ভারতের বঙ্গীয় আইন পরিষদ, পাকিস্তান প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের প্রাক্তন সদস্য, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও সাহিত্যসেবী আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হবে।
১৯৮৭ সালের এই দিনে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে ৯৭ বছর বয়সে তিনি ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে তৎকালীন জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন।
মরহুমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিকভাবে তাঁর কবর জিয়ারত, কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী স্মৃতি সংসদ, স্মৃতি পাঠাগার, অনু মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত মুন্সীগঞ্জ কাজী কমরুদ্দীন গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশন যৌথভাবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্মরণসভা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এ কে এম ইরাদত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী বাংলা ১৩০০ সালের অগ্রহায়ণ মাসে মুন্সীগঞ্জ শহরের কোর্টগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম কাজী ইব্রাহীম হোসেন ছিলেন একজন প্রভাবশালী তালুকদার, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। তিনি মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং এলাকার শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পিতার আদর্শ ও অনুপ্রেরণায় আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী জনসেবার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত ১৯৩৭ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে তিনি সমগ্র মুন্সীগঞ্জ মহকুমা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকা থেকে বিপুল ভোটে অবিভক্ত ভারতের বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন এবং ১৯৪৬ সালে দিল্লিতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগ কনভেনশনে বাংলা প্রদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। একই সময়ে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করতে চাইলে তিনি তা সসম্মানে প্রত্যাখ্যান করেন।
১৯৪৬ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। দেশভাগের পর ধারাবাহিকভাবে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৩ সালে মুন্সীগঞ্জ মহকুমা ও ফরিদপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকা থেকে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের (এমএনএ) সদস্য নির্বাচিত হন। প্রায় ২৯ বছর আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রজাস্বত্ব আইন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা আইন, মাদ্রাসা শিক্ষা আইন, ঋণ সালিশী বোর্ড আইন, মহাজনী উচ্ছেদ আইন এবং জমিদারি প্রথা বিলুপ্তিসহ বহু জনকল্যাণমূলক আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আজম খানের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষা বিস্তার ও সমাজকল্যাণে তাঁর অবদান ছিল অনন্য। তিনি মুন্সীগঞ্জে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সমান সক্রিয়। তৎকালীন সওগাত, মানসী, মোহাম্মদী, প্রবাসী, সাম্যবাদী ও সোলতানসহ বিভিন্ন পত্রিকার সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘গ্রামের কথা’ পাক্ষিক পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাহিত্যচর্চায়ও তিনি রেখে গেছেন মূল্যবান অবদান। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘চীনে ইসলাম’, ‘সাহিত্য কথা’, ‘পানের বরজ’, ‘হরগঙ্গা কলেজের ইতিহাস’ এবং ‘প্রসঙ্গ কথা’। রাজনীতি, শিক্ষা, সমাজসেবা ও সাহিত্য—এই চার অঙ্গনে তাঁর অসামান্য অবদান তাঁকে মুন্সীগঞ্জ তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর কর্মময় জীবন, আদর্শ ও জনকল্যাণমূলক অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

আজকের পত্রিকা

[foogallery id=”8441″]

© All rights reserved © 2025