মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আওলাদ হোসেনের অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গরুর ফার্মের রান্নাঘরের ভেতর মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মরদেহ।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়, মুন্সীগঞ্জ থেকে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস রিলিজে বলা হয়, গত ০২ মে ২০১৬ তারিখে আওলাদ হোসেন (৬৫) নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ১০ মে তার ভাই সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–৪৫৯) করেন। এরপর পুলিশ নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তদন্ত শুরু করে।
পরবর্তীতে ২৩ মে ২০১৬ তারিখে নিহতের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে আওলাদ হোসেনের স্ত্রী রানী বেগম, মানিক বেপারীসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিরাজদিখান থানায় পেনাল কোডের ৩৬৪/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে প্রথমে মানিক বেপারীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলামকে সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশেষ অভিযান চালিয়ে রিপন ও বিন আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামের একটি গরুর ফার্মের রান্নাঘরের ভেতর মাটিচাপা অবস্থায় আওলাদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহত আওলাদ হোসেন প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর রানী বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। একই সঙ্গে জমিজমা স্ত্রী রানী বেগমের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি ও পুনরায় বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশের জেরে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আওলাদ হোসেনকে স্থানীয় একটি গরুর ফার্মে ডেকে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করতে ফার্মের রান্নাঘরের ভেতরে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
গ্রেফতার হওয়া চার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।