মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কাটাখালী–বাগেশ্বর–মাকুহাটি সড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটারজুড়ে চলমান সংস্কারকাজের ধীরগতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। দিনের বেলায় ধুলার ঝড় আর সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা, জলাবদ্ধতা ও বড় বড় গর্তে রূপ নিচ্ছে সড়ক। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে পুরোনো কার্পেটিং তুলে রেখে দীর্ঘদিন ধরে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও ইটের সুরকি ছড়িয়ে আছে, কোথাও রোলার চালানোর পরও মাসের পর মাস পিচঢালাই হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে তৈরি হচ্ছে কাদা ও পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী পরিস্থিতি। আবার শুকনো আবহাওয়ায় ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আশপাশের বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের নামে দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক খুঁড়ে রাখলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে যাতায়াত খরচ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও চালকদের।
এদিকে সংস্কারকাজের ধীরগতিকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। গত ১৬ জুন জারি করা ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। কাজ বাস্তবায়নের অনুকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত শ্রমিক ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ না করায় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মরিয়ম নেছা নূর কনস্ট্রাকশন-কে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী চুক্তি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামানিক বলেন, “ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বুধবার সড়কটি পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। তিনি বলেন, “জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—নোটিশ আর আশ্বাসে কতটা বদলাবে বাস্তবতা? দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।