মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে আন্তঃজেলা চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চোরাইকৃত তিনটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, একটি হ্যান্ডকাফ ও দুটি ওয়াকিটকিসদৃশ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে গজারিয়া থানাধীন মেঘনা-সংলগ্ন মররাউলিয়া এলাকায় একটি অটোরিকশায় ছয়জন অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশের একটি টহল দলের সন্দেহ হয়। পুলিশ তাদের থামার সংকেত দিলে তারা অটোরিকশাটি নিয়ে পলির ভেতরের রাস্তায় ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে।
আটককৃতরা নিজেদের পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দিলেও তাদের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাফ ও দুটি ওয়াকিটকিসদৃশ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে তারা কোনো পুলিশ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেনি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে অটোরিকশা চালকদের ভয় দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অটোরিকশা চুরির কথা স্বীকার করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, চক্রটি চুরি করা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিল।
পরবর্তীতে আটক দুইজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাইকৃত অটোরিকশার ক্রেতা মো. হাবিবুর (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে দুটি চোরাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
পরে হাবিবুরকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. কাশেম ঢালী (৫০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে আরও একটি চোরাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মুক্তিনগর এলাকার মো. শামীম সৌরভ (৩২), বরগুনার আমতলী থানার মুন্সীরহাট এলাকার মো. শাকিব @ শাকিল (২৪), নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার বারপাড়া এলাকার মো. হাবিবুর (৪০) এবং মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানার হাসাইল এলাকার মো. কাশেম ঢালী (৫০)।
পুলিশ জানায়, অভিযানে তিনটি চোরাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, একটি হ্যান্ডকাফ ও দুটি ওয়াকিটকিসদৃশ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তদারকিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল মো. ইমরান আহম্মেদ, পিপিএম-সেবা-এর তত্ত্বাবধানে গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।