মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মিশুকচালক নুরুল ইসলামের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত ডাম্পট্রাক চালক ইয়াসিন শেখ (২০)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দেখানো মতে দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ট ১২-৪৩১৪ নম্বরের ডাম্পট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নুরুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত চালক। পরে ওই চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করলে ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই বিকেল প্রায় ৩টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের লতব্দী এলাকায় ফজলু চেয়ারম্যানের প্রজেক্টের সামনে পাকা সড়কের পাশে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের একটি পা ভাঙা এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় তারা।
পরে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা হলে জানা যায়, নিহত নুরুল ইসলাম (৬৫) উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চর গুলগুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় মিশুক (অটোরিকশা) চালক ছিলেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে কেয়াইন ইউনিয়নের চালতিপাড়া আন্ডারপাস এলাকায় নুরুল ইসলামের চালানো মিশুকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ডাম্পট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাম্পট্রাক চালক আহত নুরুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে গাড়িতে তুলে নিলেও পরে লতব্দী এলাকায় ফজলু চেয়ারম্যানের প্রজেক্টের সামনে সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর সিরাজদিখান থানা পুলিশ নিহতের ব্যবহৃত মিশুক উদ্ধার করে হাসাড়া হাইওয়ে থানায় সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অভিযুক্ত চালক ইয়াসিন শেখকে শনাক্ত করা হয়। সোমবার ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে কুচিয়ামোড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে লতব্দী ইউনিয়নের ইকো সিরামিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সামনে থেকে দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ডাম্পট্রাকটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় সড়ক পরিবহন আইন এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।