দীর্ঘ ১৬ বছর পর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার উত্তর বালাসুরে অবস্থিত বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ ফিরোজ আহমেদ। বুধবার (২৬ আগস্ট) তিনি সপরিবারে জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, ২০১০ সালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ মোশারফ হোসেনের সঙ্গে বিক্রমপুর জাদুঘরের কার্যক্রম পরিদর্শনে এসেছিলেন মোঃ ফিরোজ আহমেদ। তখন জাদুঘরটি ছিল প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে। সীমিত সামর্থ্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন একটি আঞ্চলিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছিল।
জাদুঘরের কিউরেটর নাছির উদ্দিন আহমেদ জানান, ২০১০ সালে সরকারি কর্মকর্তাদের উৎসাহ, সহযোগিতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি জাদুঘরের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। দীর্ঘ ১৬ বছরের পথপরিক্রমায় সেই উদ্যোগ আজ একটি পরিচিত আঞ্চলিক জাদুঘরে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে বিক্রমপুর জাদুঘরে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, লোকজ জীবন, প্রত্নসম্পদ ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশের দর্শনার্থী, গবেষক, ইতিহাসপ্রেমী ও শিক্ষার্থীদের কাছেও প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে বিক্রমপুর জাদুঘর নানা সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দখল বা বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শুভাকাঙ্ক্ষী, ইতিহাসপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের সমর্থন জাদুঘর রক্ষার উদ্যোগে নতুন সাহস জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিক্রমপুর জাদুঘরকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে জাদুঘরটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার মাধ্যমে বিক্রমপুর জাদুঘরকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও টেকসই আঞ্চলিক জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের ইতিহাস অসংখ্য কীর্তিমান মানুষ, জমিদার, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিমান ব্যক্তিত্বের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। সময়ের পরিক্রমায় তাঁদের অনেকের বসতবাড়ি, জমিদারবাড়ি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা বেদখল, বিলুপ্ত কিংবা ধ্বংস হয়েছে।
এ বাস্তবতায় ভাগ্যকূলের সাবেক জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়িতে স্থাপিত বিক্রমপুর জাদুঘর হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে।
জাদুঘরের কিউরেটর নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “২০১০ সালে মোঃ ফিরোজ আহমেদ মহোদয় যে উৎসাহ ও আশাবাদ নিয়ে বিক্রমপুর জাদুঘরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৬ বছর পর তাঁর পুনরাগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও আবেগের বিষয়। তাঁর অভিজ্ঞতা, আন্তরিকতা, মূল্যবান পরামর্শ ও সহযোগিতা ভবিষ্যতেও এই প্রতিষ্ঠানটির পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, “বিক্রমপুর জাদুঘর রক্ষা করা মানে শুধু একটি ঐতিহাসিক বাড়ি বা স্থাপনা রক্ষা করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিকড় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অতীতকে তুলে ধরার দায়িত্ব।”
মোঃ ফিরোজ আহমেদের পুনরায় জাদুঘর পরিদর্শনকে ঘিরে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১৬ বছর আগের স্মৃতি, বর্তমানের সংকট এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সব মিলিয়ে তাঁর এই সফর জাদুঘরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
বিক্রমপুর জাদুঘর ও অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ ফিরোজ আহমেদকে আন্তরিক স্বাগত, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।