বিক্রমপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক বিক্রমপুর জাদুঘর রক্ষায় যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রীনগরের সুধীজন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকরা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) শ্রীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সভা শেষে বিক্রমপুর জাদুঘরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় বিক্রমপুর জাদুঘরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রহ ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন জাদুঘরের কিউরেটর নাছির উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, নদীভাঙন, অবহেলা ও সময়ের প্রবাহে বিক্রমপুরের বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে গেছে। হারিয়ে যাওয়া সেই ইতিহাসের স্মৃতি সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিক্রমপুর জাদুঘর।
কিউরেটর আরও বলেন, সাবেক জমিদার যদুনাথ রায়ের ঐতিহাসিক বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত এ জাদুঘর ও এর প্রাঙ্গণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দখল-সংক্রান্ত আশঙ্কার কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তাই ঐতিহাসিক এ প্রতিষ্ঠান রক্ষায় শ্রীনগরের সুধীজন, মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন কৃষি ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি, শ্রীনগর কলেজের প্রথম ভিপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধসহ বিক্রমপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও স্মৃতি ধারণ করে আছে এই আঞ্চলিক জাদুঘর। এ ইতিহাসের ভাণ্ডার কোনোভাবেই ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।
“যেকোনো মূল্যে বিক্রমপুর জাদুঘর রক্ষা করতে হবে”—উল্লেখ করে তিনি জাদুঘর রক্ষায় সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যাংকার হাজী এস.এম.এ. খালেক, শাহদাত হোসেন আকাশ, মাহতাবউদ্দিন সুজন, দেওয়ান আবুল হাসেম, মো. মমিন উল্লাহ ও কিউরেটর নাছির উদ্দিন আহমেদ।
আলোচনা সভা শেষে বিক্রমপুর জাদুঘর প্রাঙ্গণে ২০টি তালগাছের আঁটি রোপণ করা হয়।
আঁটিগুলো নিজ বাসা থেকে সংগ্রহ করে ঢাকা থেকে সঙ্গে নিয়ে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন। পরে জাদুঘরের কিউরেটর নাছির উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত সবার সামনে আঁটিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে রোপণ করেন।
বক্তারা বলেন, বিক্রমপুরের গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি ও লোকঐতিহ্যের সঙ্গে তালগাছের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। আজ রোপণ করা এসব আঁটি একদিন বড় হয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি এই দিনের অঙ্গীকারেরও জীবন্ত স্মারক হয়ে থাকবে।
তাদের মতে, ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ উত্তরাধিকার রেখে যাওয়ার প্রতীক হিসেবেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
বিক্রমপুর জাদুঘরের পক্ষ থেকে শ্রীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কিউরেটর নাছির উদ্দিন আহমেদ। গুরুত্বপূর্ণ সভার জন্য জাদুঘরের কনফারেন্স রুম নির্বাচন এবং জাদুঘর প্রাঙ্গণে তালগাছের আঁটি রোপণের উদ্যোগের জন্য তিনি সমিতির নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে বিক্রমপুর জাদুঘরের ঐতিহাসিক স্থাপনা, মূল্যবান সংগ্রহ ও ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।