মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুবাকান্দি এলাকায় ‘দি জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’ কনস্ট্রাকশন সাইটে সংঘটিত সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের লুণ্ঠিত নির্মাণসামগ্রীর বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৩-৪ জন সশস্ত্র ডাকাত কনস্ট্রাকশন সাইটে প্রবেশ করে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে একটি কনটেইনার কক্ষে আটকে রেখে সাইট থেকে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী লুট করে ট্রাকে করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম (পিপিএম)-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইমরান আহম্মেদ (পিপিএম-সেবা)-এর তত্ত্বাবধানে গজারিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা একটি হলুদ রঙের ট্রাক শনাক্তের মাধ্যমে অভিযান শুরু হয়। পরবর্তীতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দ্বিতীয় ট্রাকটিও জব্দ করা হয়।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, দুটি সংঘবদ্ধ গ্রুপের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটানো হয়। শাওন, সজল ও রিয়াজুলসহ কয়েকজন ছিলেন পরিকল্পনার মূল হোতা। তাদের মধ্যে সজল হোসেন ও রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক ও সহযোগীদের নিয়ে তারা লুণ্ঠিত মালামাল ট্রাকে তুলে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ১৯ জন হলেন— মো. মাইন উদ্দিন (৪৫), মো. ছোটন (৩০), মো. রিয়াজুল ইসলাম (২৬), মো. আবুল খায়ের (৪০), মো. শাহ আলম (২৩), মো. রনি শিকদার (৩৪), মো. মেহেদী হাসান (৩৮), মনোরঞ্জন দাস (২৭), মো. আল আমিন সানা (১৯), অলোকেশ মণ্ডল (৩৫), সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), মো. অলিউর রহমান (২৪), মো. জামাল (৪০), মো. মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), মো. সজল হোসেন (৩০), মো. আরিফ (৪০), মো. মিরাজ (৪০), মো. আলী (৪০) এবং মো. রফিক (৩৩)।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক, চারটি ব্যাটারি, ১০টি ফ্যান, একটি পাওয়ার সাপ্লাই, দুটি মোটর, দুটি ডায়নামো, একটি ৩০ হর্সপাওয়ার মোটর, একটি চায়না ডিজেল ইঞ্জিন, বিভিন্ন ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক রড কাটার, একটি হাইড্রোলিক পাম্প, একটি এসি মেশিন এবং আনুমানিক সাড়ে পাঁচ টন লোহার মালামালসহ অন্যান্য নির্মাণ সরঞ্জাম।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ২৩ থেকে ২৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।