মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে সংঘটিত আলোচিত দস্যুতা মামলায় আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় মোট গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জন। একই সঙ্গে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত আরও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় জব্দ হওয়া ট্রাকের সংখ্যা বেড়ে দুইটিতে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ১১ জুলাই রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের ছোট বালুয়াকান্দি এলাকায় মিয়ামী হোটেল ও স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টের মাঝামাঝি অবস্থিত ইউএসএ এগ্রো লিমিটেডের মালিকানাধীন ভাড়াকৃত স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে সংঘবদ্ধ দস্যুতা সংঘটিত হয়।
দস্যুরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে। পরে তাদের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রেখে বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের ও সাইজের ইলেকট্রিক ক্যাবল, পাইলিং কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, লোহার পুলি, চায়না ইঞ্জিন, ওয়েল্ডিং মেশিন, ফুয়েল পাম্প, লিফটিং হেড, গালগাট্টা পুলি, ট্রেমি হেড, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ৩০ হর্স পাওয়ারের মোটর, রড কাটার মেশিনসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করে। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় দস্যুতায় ব্যবহৃত আরও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জন হলেন— শাহ আলম (২৩), রনি শিকদার (৩৪), মেহেদী হাসান (৩৮), মনোরঞ্জন দাস (২৭), আল আমিন সানা (১৯), অলোকেশ মন্ডল (৩৫), সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), অলিউর রহমান (২৪), জামাল (৪০) ও মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬)।
গজারিয়া থানার চার্জ অফিসার এসআই সাব্বির হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দস্যুতায় ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতরা একটি পেশাদার ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য বলে জানা গেছে। তারা গজারিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।