ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের এক নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালায় ডাকাতরা। এ সময় দুটি ট্রাকে করে অন্তত ২০ লাখ টাকার মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একেবারে পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন সংঘবদ্ধ ডাকাতি চললেও কেউ টের পায়নি। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে স্টোরে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে ‘ঊষা এগ্রো’ থেকে জায়গাটি ভাড়া নেয় ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’। সেখানে পাইলিং ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ করা হতো।
প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষী রিপন মিয়া জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কালো মাস্ক পরা চারজন যুবক স্টোরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে। তাদের দুজনের হাতে পিস্তল এবং একজনের হাতে ধারালো ছুরি ছিল। পরে তারা অন্য নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট আটজনকে হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং মারধর করে। এর কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকজন সহযোগী যোগ দিলে পুরো দলটি স্টোরের মালামাল ট্রাকে তোলা শুরু করে।
রাত ৮টার দিকে স্টোরের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ফরজাদুর রেজা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকেও আটক করা হয়। তিনি জানান, গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে একটি কক্ষে নিয়ে গেলে তিনি দেখেন, অন্য কর্মচারীরাও জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। রাত ১টা পর্যন্ত ডাকাতরা স্টোরে অবস্থান করে মালামাল দুটি ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। তারা চলে যাওয়ার পর জিম্মিরা নিজেদের মুক্ত করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাহাদাত হোসেন দুলাল বলেন, লুট হওয়া মালামাল ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। হিসাব শেষ হলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় মহাসড়কসংলগ্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাতের টহল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।