মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া এক কন্যা নবজাতকের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটির বৈধ অভিভাবকত্ব গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতির কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৯ জুন গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন স্থান থেকে নবজাতকটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুটির চিকিৎসার পাশাপাশি তার নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে গত ৬ জুলাই জেলা প্রশাসক মুন্সীগঞ্জের সভাপতিত্বে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উদ্ধার হওয়া নবজাতকের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় বৈধ অভিভাবকত্ব প্রদানের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পরে ৯ জুলাই বোর্ডের সদস্যরা তাঁদের মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
সদস্যদের সুপারিশ, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সার্বিক কল্যাণ বিবেচনা করে এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক ভবেরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতির কাছে নবজাতকের বৈধ অভিভাবকত্ব প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ একটি অসহায় শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুর অধিকার ও কল্যাণ রক্ষায় সরকারের মানবিক ও দায়িত্বশীল অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।