মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও আন্তঃথানা সমন্বিত অভিযানে অপহৃত এক যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুন সকালে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় এক নারী সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে জানান, তার ছেলে ইনছান বেপারী (২২) আগের রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ইমো কলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দ্রুত জিডি রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করেন এবং বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-কে অবহিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে কৌশলগত অনুসন্ধানে ভুক্তভোগীর অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধার অভিযানের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান থানাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৮ জুন রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকার কাজী ভিলা থেকে অপহৃত ইনছান বেপারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া যুবক পুলিশের কাছে জানান, তার সাবেক স্ত্রী কৌশলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় তাকে একটি বাসায় আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলাকালে পুলিশের অভিযানে তিনি উদ্ধার হন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সোহেল (২৪), মো. বেলায়েত হোসেন (২৫) ও মো. রোমান ইসলাম (২৩)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম বলেন, “মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ যেকোনো অপরাধ দমনে সর্বদা তৎপর। অভিজ্ঞতা, কৌশলগত পদক্ষেপ ও আন্তঃথানা সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”