মুন্সীগঞ্জে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিচারাধীন একটি হত্যা মামলায় আসামিরা খালাস পাওয়ার পর তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শম হাবিবুর রহমানের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন এক বৃদ্ধা আসামি। এ সময় আদালত চত্বরে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় এ দৃশ্য দেখা যায়। এর আগে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালত মামলার রায়ে আসামিদের বেকসুর খালাস দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল শ্রীনগর উপজেলার দক্ষিণ মান্দ্রা এলাকায় সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আব্দুল শিকদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত আব্দুল শিকদারের ছেলে আলি হোসেন শিকদার বাদী হয়ে একই দিন শ্রীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর বিচারাধীন থাকার পর ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে তাদের বেকসুর খালাস দেন।
খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—শ্রীনগর উপজেলার দক্ষিণ মান্দ্রা গ্রামের নুরু শিকদারের ছেলে রজ্জব (২৮), বিল্লাল (৩৫), রমজান (৩৮), বারেক চোকদারের ছেলে ফয়সাল (২০), বারেক চোকদার (৫০), নুরু শিকদারের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৫৩), বারেক চোকদারের স্ত্রী জোছনা বেগম (৪০) এবং নুরু শিকদারের মেয়ে রঞ্জনা আক্তার (১৮)।
রায় ঘোষণার পর খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের একজন বৃদ্ধা তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শম হাবিবুর রহমানের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অ্যাডভোকেট শম হাবিবুর রহমান বলেন, “মামলাটি পর্যালোচনা করে আমি দেখেছি, আসামিদের খালাস পাওয়ার মতো যথেষ্ট গ্রাউন্ড রয়েছে। বিষয়গুলো সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করেছি। বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচার করেছেন এবং আসামিরা খালাস পেয়েছেন।”
আইনজীবীর গলায় ফুলের মালা পরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “বিচারপ্রার্থীরা যখন আমাদের কাছে মামলা নিয়ে আসেন, তখন তাদের আইনগত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বও আমাদের ওপর পড়ে। আমরা চেষ্টা করি তারা যেন সঠিক বিচার পান। আজ আসামিরা খালাস পেয়ে আমাকে ফুলের মালা পরিয়েছেন—এটা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রোজিনা ইয়াসমিন ও অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।
অ্যাডভোকেট রোজিনা ইয়াসমিন বলেন, “মামলায় আমাদের পক্ষ যখন ভালো ফলাফল পায়, তখন তারা যেমন খুশি হয়, আমরাও তেমনি আনন্দিত হই। আজ আমাদের বারের একজন সিনিয়র আইনজীবীর গলায় ফুলের মালা দেখে আমিও আনন্দিত। এভাবেই আমরা বিচারপ্রার্থীদের পাশে থেকে সেবা করে যাব।”