মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে র্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে র্যাবের কটি, ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তল, হ্যান্ডকাপসহ ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে ডিবি জানতে পারে, র্যাবের ছদ্মবেশে একটি চক্র ডাকাতির উদ্দেশ্যে শ্রীনগরের ছনবাড়ী থেকে সিংপাড়ার দিকে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে একটি সিলভার রঙের টয়োটা মাইক্রোবাস ও একটি লাল রঙের হিরো এক্সব্লেড মোটরসাইকেল ছিল।
পরে হরিবাড়ী ব্রিজের পূর্ব পাশে আনোয়ারের অটো গ্যারেজের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি দুটিকে থামায় ডিবি। এ সময় মাইক্রোবাসে থাকা এক ব্যক্তি নিজেকে র্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওয়াকিটকি দেখান। পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি সদস্যরা সাতজনকে আটক করেন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, শ্রীনগর বাজারের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রায় দেড় কেজি স্বর্ণ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরের দিকে যাবেন—এমন তথ্য পেয়ে তাকে র্যাব পরিচয়ে আটক করে স্বর্ণালংকার লুটের পরিকল্পনা করেছিলেন তারা।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশের এলাকায় একই কৌশলে আরও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে যাত্রীদের অন্য গাড়িতে তুলে মারধর করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হতো বলেও জানান তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন—শরীয়তপুরের সখিপুরের ফরহাদ হোসেন (৪০), নওগাঁর বদলগাছীর চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য নাদিম মাহমুদ শান্ত ওরফে রায়হান হোসেন (৩০), রাজবাড়ীর পাংশার চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য সার্জেন্ট মিজানুর রহমান (৪১), বরগুনার আব্দুল আলীম (৩২), মাগুরার সাকিবুর জামান মেহেদী (২৬), ভোলার চরফ্যাশনের মেহেদী হাসান সুজন (৩৫) এবং বরগুনার আবু হানিফ (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, আবু হানিফ মাইক্রোবাসটির চালক।
অভিযানে একটি টয়োটা মাইক্রোবাস, একটি হিরো এক্সব্লেড মোটরসাইকেল, র্যাব লেখা তিনটি কটি, দুটি ওয়াকিটকি, দুটি খেলনা পিস্তল, দুই জোড়া হ্যান্ডকাপ, র্যাবের লোগোযুক্ত তিনটি আইডি কার্ড, তিনটি চেক গামছা, তিনটি এসএস পাইপ, একটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, একটি লেজার লাইট এবং র্যাব লেখা একটি স্টিকার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।